অনির ডাইরি ১লা মে, ২০২৬
#অনিরডাইরি
বাবা থাকলে, আজ ওদের বিয়ের ৫২ বছর পূর্তি হত। ঠিক মধ্যরাত্রে ফোন করতাম আমরা। আমি আর তুত্তুরী, তারপর গুঁতিয়ে ফোনটা ধরাতাম শৌভিকের হাতে। জেগে বসেই থাকত বাবা, গর্বিত ভাবে বলত, "থ্যাঙ্ক ইউ"। মা যথারীতি ঘুম ঘুম গলায় বলত, " তাই নাকি? আজ আমাদের বিয়ে হয়েছিল -"। এবারেও মনে ছিল না মায়ের। মনে করাইনি আমিও। শুধু বলেছিলাম, আজ তোমার কাছে খাব। আলাদা কিছু করো না, টিপিক্যাল ঘটি বাড়ির বিউলির ডাল - আলু পোস্ত হলেই হবে। টুকটুক করে অনেক কিছু করিয়েছিল মা, পোস্ত বাটা, মৌরোলা মাছ ভাজা, পুকুরের টাটকা কাতলা মাছের ঝাল, বাড়ির গাছের এঁচোড় চিংড়ি দিয়ে, আমের অম্বল, পায়েস। মা করিয়েছিল থোড়াই, করেছিল তো লতা দি আর ছুটকি। চোখ অপারেশনের পর বেশ কিছুদিন আগুন ধারে যেতে পারেনি লতা দি, আজ তাই আশ মিটিয়ে রান্না করেছে তার সোনা মা (শ্রীমতী তুত্তুরী) এর জন্য। কিনে এনেছে আইসক্রিম ও।
অনেক গল্প করলাম আমরা। পিসি নেমে এল দোতলা থেকে। সব গল্পের সব বাক্যে একটাই ধ্রুবক, সেটা হল বাবা। আমরা এমন ভাবে কথা বলছিলাম, সমালোচনা করছিলাম, ঠাট্টা করছিলাম বাবাকে নিয়ে যেন বাবা পাশের ঘরেই আছে। এখুনি এসে বসবে ডাইনিং টেবিলে আর বলবে, " আমায় নিয়ে মস্করা হচ্ছে -"। পিসি ছাড়া কেউ কাঁদিনি আমরা, সবাই সবার সামনে লোহার মুখোশ পরে ঘুরেছি। আমরা সবাই যে বীরাঙ্গনা। চলে আসার সময় তুত্তুরীকে বললাম একটা ছবি তুলে দে তো, মায়ের আর আমার। ২০০৮ এ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা ইস্তক প্রতি বছর আজকের দিনে ওদের একটা যুগল ছবি লাগাই আমি। এ বছর বাবা নেই তো কি হয়েছে, আমি তো আছি। আমার মধ্যেই বেঁচে আছে আমার বাবা। মাকে আঁকড়ে ধরে সেটাই বললাম, আমি আছি। আমি সবসময় আছি, আর আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না মা।