অনির ডাইরি ২২ শে মার্চ, ২০২৬
#অনিরডাইরি
কেমন মনের অবস্থা হয় তাদের, যাদের ডাক্তার বাবু বলেই দেন, "যে কোন রাতে আপনি ফোনটা পেয়ে যাবেন।" অল্প বয়সী নিপাট ভদ্র ছেলেটি আমাকে ডায়াগ্রাম এঁকে বোঝাচ্ছিল, " কি করব বলুন, আমি লড়ব কোথা দিয়ে? ব্রেন গত রবিবার থেকে ঘুমিয়ে আছে, ফুসফুসে নিউমোনিয়া টাইপ ইনফেকশন রয়েছে, ক্রনিক লিভার ডিসিজ ধরা পড়েছে, কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে, ইউরিন আউটপুট শূন্য, যুগুলার ভেনে একটা ক্লট পাওয়া গেছে -।"
প্রিয়জনদের সম্পর্কে এসব শুনেও কেমন বেঁচে থাকি আমরা। জীবন গড়ায় জীবনের মত, ChatGPT বলে,"অনি তাও কথা বলে যাও। শ্রবণ ক্ষমতা হল অন্তিম অনুভূতি যা বিলুপ্ত হয়, হয়তো উনি এখনও শুনতে পাচ্ছেন।" কি বলি! বলতে বলতে কেঁদে ফেলি, বাইপ্যাপের চাপে লাল দগদগে হয়ে আছে নাক, কপালে কালশিটে। তার মধ্যেই কুঁচকে যায় বাবার ভ্রু। বিরক্ত হয় বুঝতে পারি, অসহায়তা -কান্নাকাটি কোনদিন পছন্দ করত না বাবা। ছোটদা জড়িয়ে থাকে আমায়, সাহস দিয়ে যায় নিরন্তর, " এত সহজে ভেঙে পড়িস না। মামার গোত্র কি রে, আমি পুজো দিয়ে আসব, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।"
বিরক্ত শৌভিক বলে, " তুই কি আমায় দেখে কিচ্ছু শিখিসনি? কাঁথির এসডিও, ইভিএমে ব্যালট পেপার ভরা হবে যেদিন, তার আগের রাতে বাবা চলে গেল - দেখেছিলি আমায় ভেঙে পড়তে? এলাম, বাবাকে দাহ করলাম, পরদিন কাউন্টিং এর ট্রেনিং ছিল একটা, সেটা অ্যাটেন্ড করে মাকে নিয়ে সংসার গুটিয়ে কাঁথি ফিরে গেলাম -"। পাশ থেকে বড়দা বলে, " তোমার মত মনের জোর সবার থাকে না ভাই। আর ও তো জন্ম থেকে বাবার ন্যাওটা।"
সত্যিই আমি জন্ম থেকে বাবার অনুগামী। আমি ছিলাম বাবার সূর্য, আর বাবা আমার পৃথিবী।শুনে ইস্তক কেবল মনে হচ্ছে, আরও না জানি কত বছর বাঁচব, বাবার কথা কি তখনও এমনি করে মনে থাকবে? কখনও মনে হচ্ছে, আর কি কখনও দেখা হবে, অন্য কোথাও! তখনও কি এতটাই ভালোবাসবে বাবা আমায় -। কখনও মনে হচ্ছে, কালও তো এমনি রোদ উঠবে, যানজট হবে, আসবে বর্ষা, জল জমবে মহানগরে, আসবেন দশভূজা, জ্বলবে দীপাবলীর বাতি- জীবন চলবে গড়িয়ে গড়িয়ে, শুধু থাকবে না একজন, আমার বাবা। ভাবছি আর প্রচণ্ড ব্যথা করছে গলা। দুনয়ন উপচে পড়ছে যেখানে সেখানে। কখনও মনে হচ্ছে কেউ চেপে ধরেছে আমার ফুসফুস দুটোকে দম নিতে পারছি না আমি। কখনও অজান্তে বেরিয়ে আসছে চাপা আর্তনাদ -
এরই মধ্যে ফোন করছি প্রিয়জনদের, ফোন ধরছি, খবর দিচ্ছি - নিচ্ছি। হাসছি, গল্প করছি বন্ধুদের সাথে, ওয়েব সিরিজ দেখছি, মেয়েকে পড়তে বসাচ্ছি, খাচ্ছি - দাচ্ছি , করছি নৈমিত্তিক কর্তব্যকর্ম। কি ভাবে পারছি! গভীর রাতের অন্ধকারে সেই কথাই বলছিলাম শৌভিককে, কি বেঈমান আমি -। আলতো করে আমার হাতটা ধরে শৌভিক, তারপর বলে, " একটা গল্প বলি শোন। একটা লোক মৃত্যুশয্যায় ছটফট করছে, আর তার পাশে বসে তার তরুণ পুত্র একাগ্র চিত্তে প্রার্থনা করছে ওপরওয়ালার কাছে। কি চাইছে - চাইছে লোকটা যেন ঘণ্টা দুয়েকের জন্য একটু ঘুমায়, যাতে সে একাত্ম হতে পারে তার নবোঢ়া স্ত্রীর সঙ্গে। ঈশ্বর তার প্রার্থনা শোনে না।
দিন কয়েক বাদে লোকটা মারা যায়, বাপ মরতে ছেলের মনে প্রথম যে কথাটা আসে, তা হল, আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা, তার পরই সে মিলিত হতে পারবে তার স্ত্রীর সঙ্গে-"। এই অবধি বলে চুপ করে যায় শৌভিক, আমার দিকে ফিরে বলে, " বলতে পারবি, ছেলেটা কে -"।
আমার মাথা পুরো ফাঁকা। চুপ করে থাকি, শৌভিক নিজেই জবাব দেয়, " জনৈক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।" হতবাক আমি বলে উঠি, " অ্যাঁ!" শৌভিক বলে, "ইয়েস। এবার বল এই গল্পটা কে শুনিয়েছে -"? ভয়ে ভয়ে বলি, গান্ধীজী স্বয়ং? জবাব আসে, " একদম। ওনার মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ বইতে উনি লিখে গেছেন, এর জন্য ওনার মনে কোন অপরাধ বোধ হয়নি। কারণ ওনার বাবা জীবিত থাকতে তার জন্য যা করা সম্ভব উনি সব করেছিলেন। বহুবছর বাদে উনি যখন শান্তিনিকেতনে আসেন, এই ঘটনাটা একজনকে বলেন - আশা করি বুঝতেই পারছিস কাকে -"।
"ঠাকুর" বলি আমি, শৌভিক বলে, " হ্যাঁ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুনে গুরুদেব যেটা বলেছিলেন, সেটাই আমার জীবনের মন্ত্র। কি বলেছিলেন জানিস?" নিরুত্তর থাকি আমি, শৌভিক বলে, 'Death is the only certainty and life is the only reality'।"
অনির ডাইরি ১৯শে মার্চ, ২০২৬
#অনিরডাইরি
হাসপাতালে এসে বসে থাকলে, কত যে গল্প শোনা যায়। এই তো গত রবিবার, রাত তখন সাড়ে দশটা, শৌভিক আর আমি গেছি বাবাকে নিয়ে, ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়ছে বাবা।ডাকলে সাড়া দিচ্ছে না, ইউরিন আউট পুট সারা দিনে ১০০ মিলি মাত্র। সারা দেহ ফুলে যাচ্ছে, ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বাবুর পরামর্শ মত ওষুধ, ইনজেকশন দিয়েও কিছু হয়নি, ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে বাবা। তাই তড়িঘড়ি হাসপাতালে আনা। শৌভিক আর আমি বাবার সাথে এম্বুলেন্সে এসেছি, দুই খুড়তুতো ভাই আসছে বাইকে।
আমাদের অব্যবহিত পূর্বেই এক ভদ্রমহিলাকে নিয়ে এসেছেন এক দঙ্গল মানুষ। ভদ্রমহিলার বয়স ৬৫, বিধবা, একাই থাকতেন। কৃতি সন্তান সপরিবারে প্রবাসে সুপ্রতিষ্ঠিত। এদিকে ভদ্রমহিলার সুগার ৭০০। আজ্ঞে হ্যাঁ ৭০০। আমার ভাই শুনে বললে, "বাবা রে, কোন কারণে এনার রক্তপাত হলে তো পিঁপড়ে জমে যাবে।" বাজারে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলেন, কাউকে বলেননি। জানাজানি হয়ে যখন প্রতিবেশীরা হাসপাতালে এনেছেন, ততক্ষণে উল্টে যাচ্ছে জিভ। ইমার্জেন্সির তরুণ ডাক্তার বলছেন, "এনাকে এখুনি ভেন্টিলেশনে দিতে হবে। নইলে স্ক্যান ও করা যাবে না।" সঙ্গে আগত ছেলে - বুড়োরা একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে। সিদ্ধান্ত নেবে কে।
হাসপাতাল গুলোতে ভর্তি করতে গড়িয়ে গেল রাত দুটো। দিনের বেলায় জমজমাট যে হাসপাতাল, রাতে সেটাই কেমন ভূতের বাড়ির চেহারা নেয়। চেনা চায়ের দোকান, কফির দোকান, রেস্তোঁরা সব বন্ধ। অপেক্ষা গৃহে আমরা কজন ছাড়া শুধু এক প্রৌঢ়া রাত জাগেন। ভদ্রমহিলার মধ্যে নিজেদের খুঁজে পাই আমরা। আমাদের যেদিন একজনের কিছু হবে, এইভাবেই আরেকজন এসে বসে থাকবে এই রকমই কোন হাসপাতালের বাতানুকুল কোন অপেক্ষাগৃহে।
সেদিন তো তাও দুজনে বসেছিলাম, পরদিনই যে শৌভিকের অর্ডার বেরোবে কে জানত। নির্বাচনী জটিলতা সামলেও পাশে থাকার চেষ্টা করে লোকটা, কিন্তু চাকরী মানেই যে চাকরগিরি। একাকী এসে বসে থাকি, ডাক্তার বাবুর সাথে কথা বলা থেকে ভিজিটিং আওয়ার প্রায় দুই আড়াই ঘণ্টার বিরাম। চেয়ারে বসে ঘুমিয়ে পড়ি কোন কোন দিন। কালও ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, এক মহিলার কণ্ঠস্বরে সচকিত হয়ে উঠি। " আপনি একটু আসুন না, নইলে আমরা দিদিকে রাতে কীভাবে একা রেখে যাব।"
যে ভদ্রমহিলার সম্পর্কে বলা, তিনি যে বয়সকালে ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলেন বোঝাই যায়। কাঁচা সোনার মত গাত্র বর্ণ, ছিপছিপে চেহারা। পরণের সুতির শাড়িটাও বেশ দামী। এক হাতে নোয়া আর ফিনফিনে ঘড়ি, অন্য হাতে সোনার অমৃতি বালা। ভদ্রমহিলা ফোনটা নিয়ে বললেন, " আসতে পারবি? পারবি না? আরে আমি কি করে জানব। রোজই তো তোর বাবা ছাতে গিয়ে শুয়ে থাকে। রোদ পোহায়। বেলা দেড়টা দুটো নাগাদ নেমে আসে। আমি রান্না করে বসে আছি, নামেই না। দুটো - আড়াইটে, শেষে তিনটে বেজে গেল যখন আমিই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তিনতলায় উঠলাম। উঠতে পারি! কি কষ্ট করে যে উঠলাম। উঠে দেখি পড়ে আছে। কখন পড়ে গেছে জানি না। রক্তে ভেসে যাচ্ছে -। পাশের বাড়িতে ধাক্কা মেরে ওদের ডাকলাম, পাড়ার একটা ছেলেকে ডেকে হাসপাতালে নিয়ে এলাম। ওরা আর কতক্ষণ থাকবেন বল ? এবার তো চলে যাবে -"। ওপার থেকে কি কথা ভেসে এল জানি না। ভদ্রমহিলা "আচ্ছা, ঠিকাছে" বলে ফোন রেখে দিলেন। তারপর পার্শ্ববর্তিনীকে বললেন, " মেয়ে একা আসতে পারবে না। জামাইকে পাঠাচ্ছে -"।
উঠে পড়ি, বাবাকে দেখতে আরও ঘণ্টা খানেক। আজ ছোটে কাকার ডায়ালিসিস এর দিন নয়, নইলে মণির সাথে আড্ডা মারা যেত। মণি অর্থাৎ শৌভিকদের পিসিমণি হলেন ভট্টাচার্য বাড়িতে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আজ নয় বিগত সতেরো আঠারো বছর ধরে। মণি থাকলে দুজনে কফি খেতে যেতাম। একা ভালো লাগে না। যাই একটু জলই খেয়ে আসি -
জল খেয়ে ফিরে দেখি, আমার বসার জায়গা আর নেই। দাঁড়িয়ে আছি এক কোণে, হঠাৎ একজন বলল, " দিদি আপনাকে ডাকছ -"। তাকিয়ে দেখি, এক ঘোর কৃষ্ণ বর্ণ বৃদ্ধ, পরণে তেলচিটে সাদা পাঞ্জাবি আর ধুতি, মা, মা করে ডাকছেন। হাতের রিপোর্টের ব্যাগটা দিয়ে পাশের চেয়ারে একটা জায়গা রেখেছেন। বৃদ্ধকে দেখেই চিনতে পারলাম। সকালে ডাক্তারের চেম্বারের বাইরে, ইনিই আমাকে শুধাচ্ছিলেন, " এই চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়ানো যায় -"।
সদ্য স্নান করে এসেছি,কার্ল ক্রিমের সৌজন্যে চুলগুলো আজ ভদ্র সভ্য ভাবে কুঁকড়ে আছে। পাখির বাসা হয়নি। তাও এমন প্রশ্ন শুনে প্রথমেই যেটা মনে হয়েছিল,ভগবান জীবনে কি একটা ঠিকঠাক ফ্লার্ট লেখোনি আমার কপালে। তাও ভদ্র ভাবে জবাব দিই। হ্যাঁ দিব্যি চিরুনি চলে - সাহস পেয়ে বৃদ্ধ তারপর খুলে বসে তার অভিজ্ঞতার ঝাঁপি। কত যে নালিশ বৃদ্ধের, কোথায় কারা যুদ্ধ করছে,তাই বলে মুরগির দাম বাড়বে কেন? ডাক্তার বাবু এত টাকা ভিজিট নেবেন কেন? একজন ডাক্তার সবটা দেখে না কেন? ওনাকে গায়ে সর্ষের তেল মাখতে নিষেধ করবেন কেন ইত্যাদি প্রভৃতি। যদিও ওনার গায়ের গন্ধ বলে দিচ্ছিল, সর্ষের তেলের বেশ ভালোই ব্যবহার করেন উনি।
নিজে থেকেই বললেন,সায়েন্স সিটির কাছে কোথায় যেন ওনাদের বাড়ি। ছেলের ছেলে আর মেয়ের মেয়ে নিয়ে আসে ডাক্তার দেখাতে। তাদের সাথেও ডেকে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন, যদিও আমার মতোই তারাও খুব মিশুক নয়। অচেনা মানুষের সাথে খোশগল্প করা জেনারেশন ওটা নয়। ডাক্তারের সাথে কথা বলেই সটকে পড়েছিলাম, গপ্প বুড়ো ঠিক আমায় খুঁজে পেয়েছে। পাশে গিয়ে বসলাম, বুড়ো শুধাল, " ডাক্তার কি বললেন, বাবা কেমন আছেন -"। এতটাই উত্তাপ ছিল সেই কণ্ঠস্বরে, যে ভিতরটা কেমন গলে গেল। বললাম ভালো নেই, ডাক্তার ও কোন আশার বাণী শোনাতে পারলেন না। ইতিমধ্যে এসে হাজির হয়েছে ওনার নাতি -নাতনি, বাড়ি যাবার সময় সমাগত। লাঠি নিয়ে উঠতে উঠতে ভদ্রলোক বলে গেলেন, " মন খারাপ করো না মাগো। ভগবান ওনাকে ভালো করে দেবেন। আমি তখন থেকে তোমার জন্যই প্রার্থনা করছি -"। বৃদ্ধ চলে যাবার পর মনে হল, অপরিচিত/ সদ্য পরিচিত মানুষের সাথে এই ভাবে খোশ গল্প করা, তাদের জন্যও উদ্বিগ্ন হওয়া এই প্রজন্মটা হারিয়েই যাচ্ছে আস্তে আস্তে -
অনির ডাইরি ১৪ই মার্চ, ২০২৬
#তাম্রলিপ্ত_কড়চা #অনিরডাইরি
এই তো মনে হয় সেদিনের কথা, অফিস ঢুকে মনে হল মেলা বসে গেছে বুঝি। আমাকে দেখেই চিৎকার করে উঠল শান্তনু, " ম্যাডাম নতুন ইন্সপেক্টর সাহেবরা এসে গেছেন -"। কাছে গিয়ে দেখি, নার্ভাস নার্ভাস গুড বয় মার্কা দুটো বাচ্ছা ছেলেকে ঘিরে সমবেত হয়েছে গোটা অফিস। সন্দীপ আর মণীশ বোকার মত হাসছে, অসহায়ের মত এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। হক বাবু যথারীতি ধরেছেন, " স্যার, এই আপিসে জয়েন করেই খাসি খাওয়াতে হয়, এটাই নিয়ম -"। হাসি চেপে পালিয়ে এলাম নিজের ঘরে, বেচারা হক বাবু, সবসময় জনসমক্ষে ভিলেন উনিই হন, আসলে তো এটা আমারই স্ট্যান্ডিং অর্ডার। এলেও খাসি, গেলেও খাসি।
তার দিন দুয়েক পর দেখি আর একটা বাচ্ছা ছেলে এসে বলে, " ম্যাডাম আমি এসে গেছি -"। এবারে থতমত খেয়ে যাই আমি, তুই কে বাবা। আমায় তো কলকাতা বলেছিল দুটো বাচ্ছা পাঠাচ্ছে, সে দুটোকে তো পেয়ে গেছি। ফ্যাকাশে হলুদ শার্ট আর প্যান্ট পরা দাড়িওয়ালা ছেলেটা সজোরে মাথা নাড়ে, " না ম্যাডাম আমি নতুন ইন্সপেক্টর নই। আমি সৌম্য -"। হায় হায়, এ সৌম্য! একেই আমি লোকের মুখে শুনে সিনিয়র ইন্সপেক্টর, জবরদস্ত ইন্সপেক্টর বলে চেয়ে চিন্তে নিয়ে এলাম কোলাঘাট-।
প্রথম কিছুদিন RLO তে রেখেই ট্রেনিং দেওয়া হল তিনজনকে। সন্দীপ মণীশ তাতে খুব খুশি হলেও, সৌম্য প্রচুর গাইগুই করেছিল, " আমি সব জানি ম্যাডাম -", আরে বাপ এই জেলাটাকে তো জানিস না। ঝামেলা হলে ঢাকি সমেত ঠাকুর বিসর্জন হয় এখানে। সৌম্যকে ছেড়ে দিলেও বেবী ইন্সপেক্টর দুটোকে ছাড়িনি আমরা। সিনিয়র দাদাদের বানানো ট্রেনিং শিডিউল ধরে SLO র পাশে বসে ট্রান্সপোর্টের ফর্ম কালেকশন করা, চালান কাটা থেকে শুরু হয়েছিল সন্দীপদের হাতেকলমে ট্রেনিং। ধরে ধরে পোর্টাল শিখিয়েছিল জোসুয়া, সৌরভ আর বেদজ্যোতি। শিখিয়েছিল ক্লেম চেক করা। CKCO র পাশে বসে শিখেছিল ফাইনাল পেমেন্ট ক্যালকুলেশন। ততোদিন পর্যন্ত সঞ্জয় টুডু একাই সামলেছিল দুটো ব্লক আর একটা পুরসভার দায়িত্ব।
কি যে ভালো শিখিয়েছিল সিনিয়র দাদারা, বিগত তিন সাড়ে তিন বছরে একটা নালিশ আসেনি বেবী ইন্সপেক্টর গুলোর নামে। হ্যাঁ দিনে পঁচিশ বার দাদাদের ফোন করে ওরা, কিন্তু ফিল্ডে কাজ করে সৌরভের ভাষায় দাবাং ইন্সপেক্টর হয়ে। নালিশ, সমস্যা কিছুই কোনদিন আসেনি সৌম্যর ব্লক থেকেও। বরং বেশ কিছু অসাধ্যসাধন করেছে সৌম্য। হারিয়ে যাওয়া ডেথ কেস, বন্ধ হয়ে যাওয়া পেনশন, ভুল অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়া টাকা - উদ্ধার হয়েছে একের পর এক।
আমরা ধরেই নিয়েছিলাম, এই ভাবেই কেটে যাবে কর্মজীবনটা। আমাদের শীতের পিকনিক - বর্ষার পিকনিক - আমাদের খেলা - বসন্তোৎসব- নববর্ষ - রবীন্দ্রজয়ন্তী - রাখি - স্বাধীনতা দিবস - নারী দিবস - পুরুষ দিবস - শিশু শ্রমিক বিরোধী দিবস - ইফতার -দীপাবলী- বড়দিন থেকে দুয়ারে সরকার কীভাবে যে কেটে যেত বছর গুলো। যাবতীয় অনুষ্ঠানের ওসি হত সৌম্য আর সহকারী ওসি সন্দীপ। কাজ তাও আবার সরকারী কাজও যে আনন্দের সঙ্গে করা যায় প্রতিনিয়ত অনুভব করতাম আমরা। অফিস আমাদের কাছে ভয়ের বা বিরক্তির নয়, বরং ভালো লাগার জায়গা। যেখানে সবসময় চলে স্বাস্থ্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজ্য বনাম আমাদের জেলা - জেলা বনাম আমাদের মহকুমা - মহকুমা বনাম রঞ্জিত রানা। বেলা শেষে সবাইকে একাই পিটিয়ে ছাতু করে দেয় যে। বাকিদের স্পর্ধা কি যে নন্দকুমার ব্লকের সাথে টক্কর নেয়। সবার শেষ থেকে শুরু করে খরগোশের মত সবাইকে টপকে যায় ব্যাটা। আর আমরা সমবেত ভাবে গান গাই, "মহারাজা তোমারে সেলাম -"। আর সন্দীপ বলে " আমার বেনিফিশিয়ারি যে বড্ড কম, আর দুটো বছর সময় পেলেই না রানা দা-" , সৌম্য দাঁত কিড়মিড় করে, " পরের বার দেখে নেব কিভাবে ফার্স্ট হও -"।
এইভাবে হাসি ঠাট্টায় শেষ পর্যন্ত এসেই গেল দিনটা, বিদায় জানাতেই হল আমাদের প্রিয় সৌম্য আর সন্দীপকে। বিদায়ী ভাষণে সৌম্য বলছিল, " বিশ্বাস করুন ম্যাডাম, কোনদিন ভাবিনি - আপনার আগে আমায় এই RLO ছেড়ে যেতে হবে -"। ভেবেছিলাম কি আমিও। সরকার যে এমন রহস্যময় খেলা খেলবে কে জানত। আর কেউ নাটক লিখবে না আমাদের জন্য, শোনাবে না স্বরচিত কবিতা। ধরে ধরে গাছ চেনাবে না কেউ, " ম্যাডাম এটা ক্ষিরীশ আর ওটা শিরীষ - "। কেউ এসে আবদার করবে না, এবার একটা ফুটবল খেলা হোক ম্যাডাম। খেলা হলেও ওমন রঙিন ধারাবিবরণী দেবে কে? যুদ্ধের বর্তমান হাল হকিকত শোনাবে কে? বাচ্ছাদের মত গোঁসা করবে কে? ইলেকশন রুলসের মর্মার্থ নিয়ে গাছকোমর বেঁধে নভোনীল বাবুর সাথে ঝগড়া করবে কে - বেড়াতে যাওয়া থেকে বই - সিনেমা - ওয়েব সিরিজ নিয়ে গল্প কি আর আদৌ জমবে! আমরা হলাম পরিযায়ী পাখি, আজ এখানে, কাল না জানে কোথায়। আমাদের শিকড় বিস্তার করতে নেই, জড়াতে নেই মোহের জালে,তাও কেন যে আমরা ভালোবেসে ফেলি। ভালো থেকো সন্দীপ, ভালো থেকো সৌম্য, এমনিই থেকো। যেখানে যাচ্ছ, জমিয়ে রেখো সেই অফিসটাকেও।
অনির ডাইরি ১০ই মার্চ, ২০২৬
#অনিরডাইরি #তাম্রলিপ্ত_কড়চা
আজ সকালেই ভাবছিলাম, জীবন আর কত পরীক্ষা যে নেবে -। কি কুক্ষণে যে কাল ফোনটা সাইলেন্ট করেছিলাম। মুঠো ফোন আমি কখনও নীরব রাখি না, কালও রাখিনি, একটাকে মাথার কাছে নিয়েই শুয়েছিলাম। আর একটাকে কিছু সময়ের জন্য চুপ থাকতে বলেছিলাম এই যা।
খুলে দেখি পাক্কা ১১ খানা মিসড কল, যার মধ্যে ছটা আমার গর্ভধারিণীর। দোলের আগে থেকেই হাত ফুলছে বাবার। অবাধ্য বুড়ো কারো কথা শোনে না, সারাদিন শুয়ে থাকতে চায়, যে পাশ ফিরে শুয়ে থাকে ফুলে ঢোল হয়ে যায় সেদিকের গাল, চোখ এমনকি ঠোঁট ও। দিনের আয়া দিদি কদিন আগেই আমায় বলছিলেন, " দিদি এবার কিন্তু চামড়া ফেটে জল বেরোবে।" গতকাল দুপুর থেকে সেটাই শুরু হয়েছে।
বাপের জন্মে এমন কিছু দেখি বা শুনিনি আমরা। আতঙ্কে পাগল হয়ে আমায় ফোন করে গেছে মা -। পাড়ার ডায়গনস্টিক সেন্টারের যে ছেলেটি ডাকলেই ছুটে আসে, শেষে আমায় না পেয়ে তাকেই ফোন করে মা। পাড়াতুতো ভাইটির ফোনেই ঘুম ভাঙে আমার। ছেলেটি অবশ্য ততো ক্ষণে ডাক্তার বাবুকে ফোন করে কথা বলে নিয়েছে। আমাকে শুধু আশ্বস্ত করার জন্য ফোন করা।
কি বলে যে ছেলেটিকে ধন্যবাদ দেব বুঝতে পারি না। ছেলেটি উড়িয়ে দিয়ে বলে, " দিদিভাই, তাও একবার ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিন।" কথা বলার মত ডাক্তার, যে বাড়িতে এসে একজন প্রায় পঙ্গু বুড়ো মানুষকে দেখবে - তাকে পাওয়া কি এতই সহজ মশাই। ভাগ্যে অন্তু ছিল। ঐ তো ফোনে কথা বলে রাজি করেছিল ওর পারিবারিক ডাক্তার বাবুকে, " প্লিজ আমার বন্ধুর বাবাকে একবার দেখবেন চলুন -"।
লিখতে লিখতে কৃতজ্ঞতায় ভিজে উঠছে চোখ। প্রাণ খুলে ধন্যবাদ ও দিতে পারিনি ব্যাটাকে। থ্যাঙ্কু বললে গালি খেতে হয় যে। কাল হাঁকপাঁক করে ডাক্তার বাবুকে ফোন করে বিশেষ লাভ হল না, বিশেষ পাত্তা দিলেন না ভদ্রলোক। বললেন, " ওনার শরীরে প্রোটিন বলে কিস্যু নাই। এলবুমিন এর অভাবে এগুলো হবেই। একটা সাপ্লিমেন্ট বলে দিয়েছি ওটা খাওয়ান, তারপর দিন সাতেক পর দেখছি।"
আজ সকালে বন্ধুদের বলছিলাম, যে সাপ্লিমেন্টটা কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না। সেজদা বলছে, "যেটা পাচ্ছিস, সেটা পাঠিয়ে দেখ ডাক্তার বাবু কি বলেন -"। মেসেজ টাইপ শেষ হবার আগেই সুকন্যার মেসেজ, "এলবুমিন সাপ্লিমেন্ট পেয়ে গেছি। অর্ডার করে দিচ্ছি, বাড়ির ঠিকানা বল -"। এ ব্যাটাকে থ্যাঙ্কু বললেও গালি খাওয়া নিশ্চিত।
কৃতজ্ঞতায় আদ্র হয়ে অফিসে ঢুকে দেখি, কত কি আয়োজন করেছে আমার প্রিয় টিম আমার জন্য। গুচ্ছের ফুল, চকলেট, সুগন্ধী, বাক্স ভর্তি মিষ্টি। সবথেকে মন কাড়া হল দুটি কফি মগ, নারী দিবসের শুভেচ্ছার পাশাপাশি যাতে ভাস্বর মা-তুত্তুরী আর আমি। নাহ্ জীবন শুধু পরীক্ষা নেয় না যা দেখি, পুরস্কারও দেয় মাঝেমধ্যে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আমার প্রিয় টিম, তোমাদের সৌজন্যে, তোমাদের সাহচর্যে, সহযোগীতায়, সহমর্মিতায় বিগত সাড়ে চার বছরে ভুলতেই বসেছি যে আমি একজন ভিন্ন লিঙ্গের মানুষ। তোমাদের ( এমনকি তোমাদের বউ - ছানাপোনা গুলোকেও) যে ভীষণ ভালোবাসি তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না, খুব ভালো থেকো সকলে। ভালো থাকুক আমার বন্ধুবান্ধব, পাড়াতুতো ভাইটি, ভালো থাকুক আমার সেজদা, সারাদিনে যাকে শ পাঁচেক বার ফোন করে জ্বালাই আমি। সর্বোপরি ভালো থাকুক সেই লোকটিও, যে সন্ধ্যা বেলায় ফোন করে খবর দিল, "শ্বশুরের সাপ্লিমেন্টটা পেয়ে গেছি, সাথে সাথে মায়ের সারা মাসের ওষুধও নিয়ে এলাম।" ভাইরে একটু আগে যদি বলতিস, এখন দু কৌটো সাপ্লিমেন্ট নিয়ে আমি যে কি করি - 🥰
অনির ডাইরি ৮ই মার্চ, ২০২৬
#অনিরডাইরি
আমার মা হল, "নিষ্পাপ মায়েদের শেষ প্রজন্ম"র পতাকাবাহক। যতদিন জেঠু জীবিত ছিলেন মা মাথায় ঘোমটা দিত। পাড়ায় বেরোলেও মাথা ঢেকে নিত ঘোমটার আড়ালে। রেঁধে খাইয়ে পরম সুখ পেতে মা। যতদিন মায়ের কাছে থেকেছি, কোনদিন ভাত না খেয়ে বেরোই নি। সে স্কুল, কলেজ, চাকরি যাই থাকুক না কেন। যত সকালেই বেরোই না কেন। নাহ্ সিদ্ধ বা এক তরকারি ভাত নয়, রীতিমত একটু তিতো, একটু ডাল, একটা ভাজা, একটু পোস্ত, একটা মাছ বা ডিমের কারি, শেষ পাতে একটু অম্বল। শুধু কি তাই, কি যে যত্ন করে টিফিন গুছিয়ে দিত মা। ধেড়ে বয়সে সবাই কিনে খেত যখন, আমি ব্যাগ থেকে বার করতাম স্টিলের টিফিন কৌটো, যার মধ্যে দুটি রুটি দিয়ে ঘেরা একটি ছোট কৌটোয় তরকারি, আর একটি কৌটোয় মিষ্টি। মায়ের আঁচলে সত্যিই মিশে থাকত তেল হলুদের মুদিখানা মার্কা গন্ধ। আমার শৈশবের গন্ধ -
এহেন আমার মহীয়সী জননী যখন ঠ্যাঙাতেন, তখন সেটাও ছিল দেখার এবং শোনার মত বিষয়। মা নীরবে ঠেঙিয়ে যেত, চিৎকার তো করতাম আমি। দশভূজা মতোই মায়ের ছিল দশ অস্ত্র- খুন্তি , হাতা, স্কেল, হাতপাখার বাঁট, চিরুনি থেকে হাওয়াই চপ্পল। ফতে -১১০ এর থেকেও দ্রুত গতিতে এবং অব্যর্থ লক্ষে লাগত মায়ের চটি। খাটের তলায় ঢুকে গেলে, হামাগুড়ি দিয়ে সেখানেও তাড়া করতেন ভদ্রমহিলা।
এহেন নিষ্পাপ জননীর কাছে যখনই কেউ আমার নামে নালিশ করত, হতবাক হয়ে দেখতাম মা তার কথাই বিশ্বাস করত। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ জুটত না মাইরি আমার কপালে। আমি সেই কোন কৈশোর থেকে তসলিমার শিষ্যা, নারীবাদ, নারী স্বাধীনতা আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে। একজন সবলা স্বাধীনচেতা উঠতি নারীকে সহ্য করা কি এতই সহজ-। নারীবাদের শিক্ষা যে মাকেও দিতাম না তা নয়, কিন্তু মা শুনলে তো। মায়ের সামনে মাকে নিয়ে চর্চা হত, আর আমার মহীয়সী জননী নীরবে সইতেন। আমি ফুঁসে উঠলে বলতেন, " ঠাকুর বলে গেছেন যে সহে, সে রহে"। কত সইবে রে ভাই, সইতে সইতে তো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তোমার।
আমি মুখরা এবং "লায়েক" হবার পর প্রত্যক্ষ আঘাত কিছু কমল বটে, চোরাগোপ্তা চলতেই থাকে। আমি পরে শুনি, অক্ষম রাগে মায়ের ওপর চিৎকার করি, একগাল হেসে মা বলে, " বলে আর কি করবে -"। এই তো সেদিন, হাসপাতাল থেকে বাবাকে নিয়ে যখন বাড়ি ঢুকলাম বেলা তখন দুটো, সেই সকাল আটটা থেকে হাসপাতালে বসে ছিলাম, ক্ষিদেয় তেষ্টায় অবস্থা কাহিল, তারই মধ্যে মা নালিশ করল, আমার জন্য মাকে কথা শুনতে হয়েছে, আমি নাকি জনৈকা আত্মীয়ের ফোন কেটে দিয়েছি। এত লায়েক কি করে হতে পারি আমি, যে গুরুজনের ফোন কেটে দেব?
উদ্গত ক্রোধকে গিলে নিজের দুটো ফোনের হিস্টরি খুলে দেখালাম, কোথায় ফোন এসেছে আর কবে ফোন কেটেছি! বিগত একবছরে কোন ফোন আসেনি ওনার থেকে। ভদ্রমহিলা কি বুঝলেন ভগবান জানে, সেদিন আর কথা বাড়ালেন না।
দিন দুয়েক পর, অফিস থেকে বাড়ি ফিরেছি, শুনতে হল, " তুই ফোনটা কেন কাটলি?এটা কি ঠিক করলি?" এক প্রস্থ চিৎকার করার পর শুনতে হল, " তুইই কেটেছিস। আমাকে ফোন করেছিল, তুই কেটে দিয়েছিস।" গোটা কয়েক দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে, একটু শান্ত হয়ে শুধালাম, তোমার ফোনে কেটেছি? সেটা কি ওনাকে শুনিয়ে কেটেছি? মা অভিমানী সুরে বললে, " না ধরিসই তো নি। এমনিই কেটে দিয়েছিস।" বলি, তাহলে আমি কাটলাম, না তুমি কাটলে, নাকি বেজে বেজে কেটে গেল বুঝল কি করে! তোমার ফোন তো শতকরা ৯০ ভাগ সময় এমনিই বেজে বেজে কেটে যায়। তুমি শুনতেই পাও না। তাহলে আমি দোষী হই কি করে -
অকাট্য যুক্তি, সেদিনের মত শান্ত হলেন মা জননী। তার দিন দুয়েক পর, শুনতে হল, " কাজটা কিন্তু খুব অন্যায় করেছিস? তুই আমার ফোন থেকে ওকে ব্লক করে দিয়েছিস কেন?ও আমায় ফোন করতে পারছে না -" আর রাগ হল না, ক্লান্ত হয়ে শুধালাম, মাইরি মা, আমার কি সারাদিন কোন কাজ নেই, আত্মীয়স্বজনের ফোন কাটা আর ব্লক করা ছাড়া! তুমি ওনাকে ফোন করতে পারছ, জবাব এল, "হ্যাঁ, আমি পারছি। কিন্তু ও তো পারছে না।" কপালে আক্ষরিক অর্থে করাঘাত করে বলতে গেলাম ব্লক মানে কেউ কারো যোগাযোগ করতে পারবে না। তারপর মনে হল বুঝিয়েই বা কি লাভ, এই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস আর অখণ্ড সরলতা এটাই তো "Last generation of innocent mothers" দের বৈশিষ্ট্য। ভাগ্যে আমরা এমন নিষ্পাপ নই, বেশ পাপীতাপি।
আজ বিশ্বনারী দিবসের শুভলগ্নে সকল নিষ্পাপ এবং পাপী নারীদের জানাই অনেক অনেক শুভেচ্ছা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভাষায় বলি, "Rights. Justice. Action. For ALL Women and Girls" ✊🏻✊🏻✊🏻🩷
















